জোনাক পোকার আত্মহত্যা


খুব বেশি দূর যাওয়া হয়নি আমার। কেননা সেদিন সবক’টা পথে অনেক দোলের রঙ খেলা হয়েছিলো। মাথার চারপাশ ঘিরে যীশুর মত কাঁটা নয়, ফুলের মালা দিয়ে সেজে আবির-লাল হয়ে অন্ধকার বারান্দাটার পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম আমি। একবার এ মাথা থেকে ওমাথা। আবার ওমাথা থেকে এমাথা। আর সে পথেই শুয়ে ছিল সোনালি রাজকুমার। বেশ গভীর রাত ছিল সেটা। সকলেই প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছিলো।
কে যেন বলছিলো যদি জোনাক পোকা ধরে কাচের বোতলে বেশি দিন রেখে দেওয়া হয়, খাবার দিলেও নাকি জোনাক পোকা কাচের দেওয়ালে মাথা কুটে মরে যায়। গল্পটার সত্যি, মিথ্যা আমি কোথাও খুঁজে পাইনি। তবু জোনাক পোকার আত্মহত্যার গল্পটা সারাদিন আমাকে ভীষণ আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো।
কে জানে হবে হয়ত তাই যখন রাজকুমার আমাকে বলল,‘আয়, পাশে এসে বস্’, আমি কাছে গিয়ে দেখলাম, ‘কি আশ্চর্য! আকাশে আজ এত তারা!’ ধীরে, ধীরে সবাই জেগে উঠল। ঝড় বাড়ল। চোখ বুজে খোলা রাস্তার উপর শুয়ে ততক্ষণে রাজকুমার এক অদ্ভুত গলায় বলতে শুরু করেছে, 
‘ভালোবেসে তাকে ঢেলেছি যে, ইস্ 
কন্ঠে কি বিষ, জানতে চেয়ো না।’
আমার বড় বেশি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গেল। পরদিন অনেক শিলাবৃষ্টি দেখে আমি প্রথমে বুঝতেই পারলাম না। ভাবলাম বুঝি একঝাঁক শাদা রঙের বক এসে ঘাসের উপর নেমেছে।


খড়গপুর আই আই টি, সরোজিনী হল, ১৯৮৭



Comments

Popular Posts